ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মরাদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার ছিটকে পড়ে মারা যাওয়া পাঁচজনের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে গেছেন নিহতদের কয়েকজন স্বজনও।

সোমবার (১৫ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে পৌঁছায়। যাদের মরদেহ সেখানে নেওয়া হয়েছে, তারা হলেন- রুবেল (৫৫), ফাহিমা, ঝরণা (২৮), জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)।

দুর্ঘটনায় হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১) নামে নবদম্পতিও আহত হয়েছেন। তাদেরও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্বজনরা জানান, ফাহিমা হলেন নববধূ রিয়া মনির মা। আর ঝরণা হলেন তার খালা। রুবেল সম্পর্কে ফাহিমা-ঝরণার বেয়াই। জান্নাত ও জাকারিয়া ঝরণার সন্তান। ফাহিমা-ঝরণাদের বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুরে। আর রুবেলের বাড়ি মেহেরপুরে।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা রুবেলের ভাগ্নে সবুজ জানান, ‍দুর্ঘটনার সময় রুবেলই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তবে তিনি পেশাদার চালক ছিলেন না। তিনি ব্যবসা করতেন। তার বাসা এয়ারপোর্ট সংলগ্ন কাউলা এলাকায়। দুই পরিবারে তার এক ছেলে এক মেয়ে। কাউলায় রুবেলের বাসা থেকে হৃদয়ের আশুলিয়ার বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা।

ফাহিমার ভাই মনির হোসেন জানান, ফাহিমাদের বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুরে। খবর পেয়ে তারা এ হাসপাতালে এসেছেন। অন্য স্বজনরাও পথে। পুলিশ বিভিন্ন তথ্য নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) মরদেহ হস্তান্তর করা হতে পারে।

এর আগে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনে ক্রেন থেকে গার্ডারটি ছিটকে পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রকল্পের জন্য নির্মিত গার্ডার ক্রেন দিয়ে সরানোর সময় হঠাৎ সেটি ঢাকা থেকে গাজীপুরের দিকে চলন্ত অবস্থায় প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে যায়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে উদ্ধারকর্মীরা প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

Related Posts