কিয়েভ ছেড়ে পালালেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি

রাজধানী কিয়েভ ছেড়ে লাভভ শহরে চলে গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার আইনসভা স্টেট দুমার স্পিকার ভিয়াচেসলাভ ভলোদিন এমন দাবি করেন। খবর স্পুটনিকের।ভলোদিন বলেন, গতকাল রাজধানী ছেড়ে চলে গেছেন জেলেনস্কি। তিনি এখন কিয়েভে নেই। তিনি লাভভে পালিয়েছেন। সেখানে সহযোগীদের নিয়ে বসবাসের ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে যেসব ভিডিও পোস্ট দিচ্ছেন, তা আগেই রেকর্ড করা হয়েছিল। ইউক্রেনের পার্লামেন্ট রাডার-এর এক কর্মকর্তা তাকে এই তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন দুমা স্পিকার।

এদিকে প্রতিবেশী ইউক্রেনের আট শতাধিক সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া। মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আইগর কোনাশেনকভ বলেন, ১৪টি সামরিক বিমানঘাঁটি, ১৯টি কমান্ড পোস্ট, ২৪টি এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ৪৮টি রাডার স্টেশন ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া আটটি ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর নৌকায় আঘাত হানা হয়েছে। এদিকে ইউক্রেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিক্টর লিয়াসখো বলেছেন, রাশিয়ার হামলায় তিন শিশুসহ ১৯৮ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তিনি বলেন, লড়াইয়ে ১ হাজার ১১৫ বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তার দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই। শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক টুইটবার্তায় তিনি এমন দাবি করেন। রাশিয়ার আগ্রাসনের পর কিয়েভে দুই পক্ষের তুমুল লড়াই চলছে। এ সময় সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ও পোস্টের মাধ্যমে দেশের হালনাগাদ অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন তিনি। এর আগে ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘ভুয়া খবরে বিশ্বাস করবেন না। আমি এখানে। আমরা অস্ত্র সমর্পণ করছি না। আমরা দেশকে রক্ষা করব। কারণ, আমাদের অস্ত্র সত্য। আর আমাদের সত্য হচ্ছে আমাদের ভূমি, আমাদের শিশুরা। আমরা সবাইকে রক্ষা করব।’ ভিন্ন একটি টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে নতুন কূটনৈতিক দুয়ার খুলে গেছে। আমাদের অংশীদারদের কাছ থেকে অস্ত্র ও সরঞ্জাম আসছে। যুদ্ধবিরোধী জোট সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এর আগে ম্যাক্রোঁ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ ও পরিস্থিতিকে ঘিরে সংকটে খাদ্য সরবরাহে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, এই সকালে আমি শুধু আপনাদের একটি কথাই বলতে পারি, তা হচ্ছে, যুদ্ধ স্থায়ী হচ্ছে। কাজেই তার পরিণতিও হবে ভয়াবহ ও স্থায়ী।’

Related Posts