কারাগার থেকে পালালেন হাজারো বন্দি

কারাগার থেকে পালালেন হাজারো বন্দি

কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন হাজারো বন্দি। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবেই ঘটেছে এমন ঘটনা। এ সময় নিহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন। সোমবার (০৪ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাং সহিংসতায় এ ঘটনা ঘটেছে। আর এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাবেক এ পুলিশ কর্মকর্তা। আর ঘটনাটি ঘটেছে আফ্রিকার দেশ হাইতিতে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, হাইতির রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্সে প্রধান কারাগার থেকে হাজার হাজার বন্দি পালিয়ে গিয়েছেন। এ সময় নিহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আরিয়েল হেনরিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের জন্য গ্যাং সহিংসতায় এ ঘটনা ঘটেছে।

গ্যাংয়ের এ সহিংসতায় জিমি চেরিজিয়ার নামের সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তা নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বারবিকিউ নামেও পরিচিত। শনিবার দেশটির রাজধানীতে একটি কারাগারে রাতভর তারা এ সহিংসতা চালায়।

ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর ডিফেন্স অব হিউম্যান রাইটসের পিয়েরে এস্পেরেন্স বলেন, সহিংসতার পর কারাগারের তিন হাজার ৮০০ বন্দির মধ্যে মাত্র ১০০ জনের মতো অবশিষ্ট রয়েছেন। অনেক বন্দির লাশ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

এএফপির এক সাংবাদিক রোববার কারাগার পরিদর্শনের পর জানান, কারাগারের বাইরে অনেকের লাশ পড়ে রয়েছে। এছাড়া এটির দরজা খোলা রয়েছে। ভেতরে অবশিষ্ট কোনো লোক নেই।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কারাগারে পুলিশের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এছাড়া এটির প্রধান দরজা পুরো উন্মুক্ত রয়েছে। কারাগারের অজ্ঞাত এক বন্দি রয়টার্সকে বলেন, আমিই আমার সেলের একমাত্র বন্দি যে থেকে গিয়েছি। আমরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। এ বুলেটের আওয়াজ শুনতে পাই। সেলের বেষ্টনিগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এক বিবৃতিতে হাইতির সরকার জানিয়েছে, পুলিশ কেন্দ্রীয় কারাগার ও ক্রোইক্স ডেস বুকেটসে গ্যাং সহিংসতা ঠেকাতে চেষ্টা করেছিল। এস্পেরেন্স বলেন, দ্বিতীয় কারাগার থেকে ঠিক কতজন বন্দি পালিয়েছেন তা তাৎক্ষণিক স্পস্ট হওয়া যায়নি। তবে সেখানে এক হাজার ৪৫০ জন বন্দি ছিলেন।

সরকার জানিয়েছে, কারাগারে এ হামলায় কারাগারের স্টাফ ‍ও বন্দিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, গ্যাং সহিংসতার এ পর্বটি গত বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) শুরু হয়। ওই দিন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাইতিতে কেনিয়ার নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনার জন্য নাইরোবি সফরে যান। এরপর গ্যাং নেতা জিমি প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের জন্য সমন্বিত আক্রমণ চালানোর ঘোষণা দেন।