কাভার্ডভ্যান চাপায় নর্থ-সাউথ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কাভার্ডভ্যান চাপায়  নর্থ-সাউথ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা মমতাজ মীমের (২০) মৃত্যুর খবর এখনো জানেন না তার মা ও ছোট বোন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস থাকায় শুক্রবার (১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর উত্তরা-৬ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন মীম।

পথিমধ্যে আনুমানিক সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মীম। ধারণা করা হচ্ছে, কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহত হয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে সিসি টিভি ফুটেজ দেখে কাভার্ডভ্যানের নম্বর শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মীমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তার (মীম) ছোট বোনের নাম মৌ। আজ সকালে মৌ’য়ের মেডিকেল (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তি পরীক্ষা ছিল। তাই খুব সকালে মৌকে নিয়ে তার মা পরীক্ষা কেন্দ্রে যান। তবে, মীমের মৃত্যুর খবর বিকেল পর্যন্ত তার ছোট বোন ও মাকে জানাননি পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে, রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল ৪টার দিকে পরিবারের কাছে মীমের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। দাফনের জন্য মীমের মরদেহ নিয়ে গাজীপুরে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন স্বজনেরা। স্বজনদের সঙ্গে মীমের ছোট বোন ও মাও গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই বোনের মধ্যে বড় মীম অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় পরিবারে সবার আদরের ছিলেন। ছোট বেলা থেকেই মীমের পছন্দের সাবজেক্ট ছিল ইংরেজি, স্বপ্ন ছিল নামিদামি কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা। সেই অনুযায়ী মীমের বাবার প্রতিষ্ঠিত মৌচাক আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-ফাইভ পেয়ে ভর্তি হয়েছিলেন নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিন বছর ধরে মীম স্কুটি চালিয়ে বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন।

মরদেহ নিতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা মীমের মামাতো ভাই অ্যাডভোকেট মো. নাবিল আলী কামরুল বলেন, মীমের বাবা মৌচাক আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আর মা গৃহিণী। দুই মেয়েকে নিয়ে রাজধানীর উত্তরা-৬ নম্বর সেক্টরে থাকতেন তারা। বাসে যানজট ও ভিড় থাকায় যাতায়াতের সুবিধার্থ উত্তরা-৬ নম্বর সেক্টর থেকে নিজেই স্কুটি চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতেন মীম। তিন বছর ধরে মীম স্কুটি চালিয়ে আসছিল। এর আগে সে কখনো অ্যাক্সিডেন্ট করেনি। আজ সকালেও স্কুটি চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছিল মীম। শুনেছি, একটি কাভার্ডভ্যান কিংবা ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে করে মীমের মাথায় আঘাত লাগে। হেলমেট থাকলেও ভেঙে গিয়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগে। বেপরোয়া গতির কারণে কাভার্ডভ্যানের চালক মীমের স্কুটি চাপা দেয়। এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যানচালকের বিরুদ্ধে মামলা করবো- যোগ করেন কামরুল।

তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মীমের মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর হাসপাতাল থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে দাফনের জন্য গাজীপুরের মৌচাকে গ্রামে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি আমরা।

রাত ১০টা নাগাদ জানাজা হবে জানিয়ে কামরুল বলেন, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি আমরা। সঙ্গে মীমের বাবাসহ স্বজনেরা আছেন। তবে মীমের মা ও ছোট বোনকে এখনো বিষয়টি জানানো হয়নি। অন্য একটি বিষয় বলে মীমের মা ও বোনকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সী সাব্বির আহমেদ বলেন, ফ্লাইওভার থেকে ৩০০ ফিট সড়কে নামার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও মাথায় রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে একটি কাভার্ডভ্যানকে দেখা গেছে। ফুটেজ নিয়ে কাজ চলছে। কাভার্ডভ্যানটির নম্বরও পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেটি এখনই প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।

জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া খিলক্ষেত থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজল সরকার বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একজন পথচারী মীমকে রাস্তায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পরই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে একজন পথচারী মীমকে রাস্তায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পথচারীদের সহায়তায় গুরুতর আহত মীমকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।