কাজী নাবিল: বাজেটের ফলে মূল্যস্ফীতিতে ভুগতে থাকা মানুষ স্বস্তি পাবে

কাজী নাবিল: বাজেটের ফলে মূল্যস্ফীতিতে ভুগতে থাকা মানুষ স্বস্তি পাবে

প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে যে সংকোচন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে তাতে মূল্যস্ফীতিতে ভুগতে থাকা মানুষ স্বস্তি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় অর্থমন্ত্রী যে বাজেট দিয়েছেন তা মানুষকে স্বস্তি দিতে সক্ষম হবে।

বুধবার (২৬ জুন) প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি কাজী নাবিল বলেন, বাজেট কেবল ইনকাম স্টেটমেন্ট নয়, এখানে পয়েন্ট অব প্রিন্সিপ্যাল থাকে। সরকারের যে নীতি ও আদর্শ এবং নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটে জাতীয় বাজেটে।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবারের বাজেট প্রণীত হয়েছে উল্লেখ করে কাজী নাবিল বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক যে পরিস্থিতি সারা পৃথিবী মোকাবিলা করছে, শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে আমরা তা মোকাবিলা করে আসছি। কোভিড মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে উদ্ভূত যে পরিস্থিতি, সেই পরিপ্রেক্ষিতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে সুবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে বাজেটে সংকোচনমূলক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এটা প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে বর্ধিত করা হতো। এবার তা হয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ হারে। এর মাধ্যমে আমাদের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করা যায়।

কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অগ্রিম করের হার অর্ধেক করা হয়েছে। এটি বাজেটে অন্যতম একটি ইতিবাচক দিক। চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজসহ ৩০টি নিত্যপণ্যের ওপর কর দুই শতাংশের পরিবর্তে এক শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতিতে ভুগতে থাকা মানুষ স্বস্তি পারে।

তিনি  বলেন, এবার এডিপিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত সর্বোচ্চ ৫টি খাতের মধ্যে উঠে এসেছে। এবার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। করপোরেট কর এবার বাজেটে কমানো হয়েছে। আইসিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ১৩টি খাতে পরবর্তী তিন বছরের জন্য কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা এ খাতের উদ্যোক্তাদের স্বস্তি দেবে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য করপোরেট কর কমানো হয়েছে। কর ও জিডিপির আনুপাতিক হারের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যেগুলোর কর কম, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।

সরকারি দলের এই এমপি বলেন, প্রতি বছর আমাদের জিডিপি বাড়ছে। ২০০৯ সালের ৬০ বিলিয়ন ডলার থেকে বর্তমানে ৪৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের ট্যাক্স নেট বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানো দরকার। আরও বেশি মানুষকে করজালের আওতায় আনা দরকার। এ ক্ষেত্রে দেখতে হবে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর যেন করের বোঝা না পড়ে। ভ্যাটনীতি সুষম করা প্রয়োজন। প্যাকেজ ভ্যাটের পরিবর্তে পণ্যভিত্তিক প্রত্যক্ষ কর আদায় করা দরকার। এর সঠিক পরিসংখ্যানও রাখা দরকার।

তিনি বলেন, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে। আমরা অর্থনীতির দিক থেকে সঠিক পথেই আছি। এ বাজেট আমরা বাস্তবায়ন করতে পারলে অর্থমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে আশা করি। এটা সম্ভব হলে উন্নয়নমূলক কাজগুলোও অর্থবহ করা যাবে।

নিজের নির্বাচনি এলাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ চলমান আছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাবো, এতে অর্থায়ন যেন অব্যাহত থাকে। এ কাজ যেন আমরা যথাসময়ে সমাপ্ত করতে পারি। প্রধানমন্ত্রী যশোর স্টেডিয়ামকে আধুনিকায়ন করে আরও পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা যেন দেশের পুরনো জেলার এই স্টেডিয়ামকে আরও ‍সুন্দর করতে পারি।