কলকাতা পুলিশের এমপি আজিমের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের দাবি

কলকাতা পুলিশের এমপি আজিমের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের দাবি

ঝিনাইদহ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমের খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের দাবি করেছে কলকাতা পুলিশ। আটক ক্যাবচালক জুবেইর ওরফে জিহাদকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চাঞ্চল্যকর এ তথ্য দেন।

এছাড়া কীভাবে সংসদ সদস্য আজিমকে কলকাতার বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে হত্যা করা হয়েছে, সেই বিষয়েও সিআইডিকে বিস্তারিত তথ্য দেন ক্যাবচালক।

পুলিশ সূত্র জানায়, কলকাতার নিউ টাউনের পাশের ভাঙ্গর নামক এলাকার বাগজোলা খালের কৃষ্ণমাটি সেতুর পাশ থেকে মরদেহের টুকরা উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাত ১০টা নাগাদ এই উদ্ধার অভিযান চালায় কলকাতা সিআইডি ও পুলিশের একটি দল।

জানা যায়, রাত ১০টা নাগাদ পুলিশের বিরাট কনভয় (১৫টি গাড়ি) নিউ টাউন হয়ে বাগজোলা খালের পাশে এসে দাঁড়ায়। ১০০ জনের মতো পুলিশ খালপাড়ে তন্নতন্ন করে খণ্ডবিখণ্ড লাশ খুঁজতে শুরু করে। কৃষ্ণমাটি সেতুর পাশ থেকে খণ্ড খণ্ড দেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সেই দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় সিআইডি এবং কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টিম।

এলাকাবাসী জানান, রাতের অন্ধকারে পুলিশের এই অভিযান চলে। পুলিশের এত কনভয় দেখে ভাঙ্গরের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনার গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান এমপি আজীম। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে ওঠেন তিনি। এরপর ১৩ মে তাকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে গুম করা হয়েছে বলে জানায় ডিবি।

এদিকে বুধবার (২২ মে) রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সরকারদলীয় এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল তারই ছোটবেলার বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার আক্তারুজ্জামান শাহীন! এই হত্যার পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আরেক বন্ধু ও চরমপন্থি নেতা আমান উল্লাহ আমানকে। কলকাতায় বসে হত্যার চূড়ান্ত ছক এঁকে বাংলাদেশে চলে আসে শাহীন। পরে আমানসহ ছয় জন মিলে এমপি আজীমকে প্রথমে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ কেটে টুকরো টুকরো করে ট্রলিব্যাগে ভরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ফেলে দেয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগ আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া চরমপন্থি দল পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা আমানসহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে।

এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার খুনের ঘটনায় তার মেয়ে ডরিন বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে কলকাতায়ও পৃথক একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। কলকাতার পুলিশ লাশের টুকরো বহনকারী এক প্রাইভেটকারের চালককে আটক করেছে।

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিরা ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছেও একই স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ।