করোনা সংক্রমণে বিমানের ফ্লাইট বাতিল

পাইলট-কেবিনক্রুদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর প্রভাবে বেশ কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুটের ফ্লাইট বাতিল করছে বিমান। এতে বারবার করোনা টেষ্টসহ নানা কারণে খরচ বাড়ায় বিড়ম্বনায় পড়ছেন যাত্রীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একের পর এক পাইলট ও কেবিন ক্রু করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় পাইলট–সংকটে মাঝেমধ্যেই ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের ঘটনা ঘটছে।গত জানুয়ারিতে মোট ৫৬ জন পাইলট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর কেবিন ক্রু আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ জন। এর ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে পাইলটদের মাসিক ফ্লাইটসূচি তৈরি করা যায়নি। উড়োজাহাজের ককপিটের কর্মীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় ২ ফেব্রুয়ারি ফ্লাইট শিডিউল পুনর্বিন্যাস করতে চিঠিও দিয়েছে বিমানের-ফ্লাইট অপারেশন বিভাগ।

বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পাইলট অ্যাসোসিয়েশন সূত্র থেকে জানা যায়, বিমানবহরে উড়োজাহাজ আছে ২১টি। এর বিপরীতে পাইলট প্রয়োজন ২০১ জন। কিন্তু পাইলট আছেন ১৫৮ জন। এই অবস্থায় পাইলটদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তারপরও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। আবার ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেও করোনায় সম্মুখসারির কর্মীর স্বীকৃতি পাচ্ছেন না তারা। করোনায় আক্রান্ত হলে নিজ খরচে চিকিৎসা করতে হচ্ছে। পাইলটদের অভিযোগ, করোনার সময়ে তারা ঝুঁকি নিয়ে ফ্লাইট চালিয়েছে, এখনো চালাচ্ছে। অনেকের পরিবারের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্মুখসারিতে কাজ করলেও তাদের কোনো স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে না। তারা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেও বিমান কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা ব্যয় বহন করছে না। এমনকি তারা যে করোনাকালে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, সেটার স্বীকৃতিও পাচ্ছেন না। এর ওপর ২০২০ সালে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর তাদের বেতনও কেটে নেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে বিমানের মুখপাত্র ও উপমহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, করোনাকালে বিমানের পাইলট, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যে বেতন কেটে নেয়া হয়েছে, তা দেয়ার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট অপারেশনস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একজন পাইলটের মাসে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ৬০ ঘণ্টা এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ৭৫ ঘণ্টা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেককে ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তারপরও ফ্লাইটসূচি ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে এই এয়ারলাইন্স। কর্মী সংকটে বাতিল হচ্ছে- সৌদি আরব, নেপাল, দুবাইসহ বিভিন্ন রুটের ফ্লাইট। বাতিল হওয়া এক ফ্লাইটের যাত্রী জানিয়েছেন, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নেপাল থেকে দেশে আসার সময় পাইলট সংকটে সেটি বাতিল করতে হয়। পরে সেই ফ্লাইটের যাত্রীরা অন্য একটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দেশে আসেন।অনেক যাত্রীর দুই থেকে তিনবার ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে বারবার করোনা টেস্ট আর হোটেলে অবস্থান করতে গিয়ে খরচ হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

Related Posts