কমেছে পেঁয়াজের দাম

আগামী দুই দিন সরকারি ছুটি থাকার পাশাপাশি বাজারে পর্যাপ্ত মিয়ানমারের পেঁয়াজের আমদানি এবং দেশীয় বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে হিলি স্থলবন্দরে কমেছে ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম। তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম কমেছে ৩ থেকে ৪ টাকা। বিগত তিনদিন আগে যে পেঁয়াজ হিলি স্থলবন্দরে বিক্রি হয়েছে ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা দরে।

বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সেই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে (ট্রাক সেল) ২৮ থেকে ২৯ টাকা দরে।হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে গত সপ্তাহ থেকে চলতি সপ্তাহে পেঁয়াজের আমদানি কিছুটা বেশি হয়েছে। তবে পাইকারপত্র অনেকটাই কম। কারণ দেশে মুড়িকাটা পেঁয়াজ কৃষকরা বাজারে এনেছেন, তাতে সরবরাহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। যার কারণেই ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের চাহিদা অনেকটাই কম। চলতি সপ্তাহে শনি ও রোববার যে পেঁয়াজ হিলিবন্দরে বিক্রি হয়েছে ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা দরে, তা বুধবার বিক্রি হয়েছে ২৮ থেকে ২৯ টাকায়।হিলি বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন হিলি বন্দর থেকে দুই চার ট্রাক পেঁয়াজ কিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও সিলেটে পাঠিয়ে থাকি কিন্তু সে আড়তগুলোতে পেঁয়াজের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে। গত সপ্তাহে পেঁয়াজগুলো এখনও বিক্রি অপেক্ষায়। কারণ কাল পরশু দিন সরকারি ছুটি পাশাপাশি মিয়ানমারের পেঁয়াজ পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে। আবার দেশে মুড়িকাটার সরবরাহ বেড়েছে। যার কারণে ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের চাহিদাও খুব একটা নাই বললেই চলে।এ বিষয়ে হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল খান জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। শুল্কায়ন শেষে পেঁয়াজ দ্রুত ছাড় দেওয়া হচ্ছে যাতে আমদানিকারকরা সহজে বাজারজাত করতে পারেন। গত সপ্তাহের ৬ কর্মদিবসে ১০২ ভারতীয় ট্রাকে ২ হাজার ৮৮৯ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হলেও চলতি সপ্তাহের ৫ কর্মদিবসে ১০৫ ট্রাকে ৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এ দিকে ঢাকার কাঁচাবাজারে গত কয়েকদিন পেঁয়াজের দাম বাড়লেও তা কমে এসেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৮ থেকে ১০ টাকা কম দরে বিক্রি হচ্ছে। বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজারের খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪২ টাকা এবং মিসরীয় পেঁয়াজ ৩২ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা এক সপ্তাহ আগেও কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি ছিল।