কক্সবাজারসহ সব সমুদ্রবন্দরে ৩নম্বর সংকেত

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। উড়িষ্যা উপকূলের অদূরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে উপকূলীয় অন্ধপ্রদেশ ও এর কাছাকাছি উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্রবন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে— রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
পরবর্তী দুদিনে আবহাওয়া পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা নেই। পরের পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। 
গত ২৪ ঘণ্টায় তাড়াশে সর্বোচ্চ ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া কুমারখালীতে ২৯ মিলিমিটার, সাতক্ষীরায় ২৮ মিলিমিটার, তেঁতুলিয়া ও রাজারহাটে ২৭ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জ ও রাঙামাটিতে ২৬ মিলিমিটার, শ্রীমঙ্গলে ২৪ মিলিমিটার, খুলনায় ২২ মিলিমিটার এবং ঈশ্বরদী ও সৈয়দপুরে ২১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময় ঢাকায় মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এ ছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। মঙ্গলবার সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, উড়িষ্যা উপকূলের অদূরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি পশ্চিম-মধ্য বাঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও এর আশপাশের এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বাড়তি অংশ রাজস্থান, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, উড়িষ্যা, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। সূত্র: বাসস

Related Posts