বাড়ছে আলুর দাম

বাড়ছে আলুর দাম

বাজারে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম চড়া। দর বাড়ছে একের পর এক পণ্যের। চাল-আটা, মুরগি, পেঁয়াজ, চিনি, সয়াবিন তেলের পর এবার এ তালিকায় নাম লিখিয়েছে আলু। গত তিন-চার দিনে আলুর দাম বেড়েছে কেজিতে ৬ থেকে ১০ টাকা। এছাড়া মাঝে কিছুটা কমে আবার বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ থেকে ১২ টাকা বেড়েছে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি আলু খুচরা বাজারে ২২ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪ থেকে ৫ দিন আগেও দাম ছিল ১৬ থেকে ২০ টাকা। জানা গেছে, বাজারে হঠাৎ করে আলুর টান পড়েছে। ফলে পাইকারিতে দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। কারওয়ান বাজারের একজন খুচরা বিক্রেতা  বলেন, ৫ থেকে ৬ দিন ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। বাজারে আগের চেয়ে কম পরিমাণে আলু দিচ্ছেন পাইকার ও কোল্ডস্টোরেজের মালিকেরা। কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা তো কমেনি। এ কারণে দাম বাড়ছে আলুর। আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের পর গত সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে ছিল ভারতীয় পেঁয়াজের দাম। দাম নেমে আসে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। এখন প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৫২ থেকে ৫৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে কেজিতে তিন টাকার মতো। গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৬০ থেকে ৬২ টাকা বিক্রি হলেও এখন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। চালের দামও বেড়েছে কিছুটা। টিসিবির তথ্য মতে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে মিনিকেট স্বর্ণা ও বিআর-২৮ জাতীয় চালের দাম প্রতি কেজিতে দুই টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। গত সপ্তাহে এই চালের দর ছিল ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা। নাজিরশাইলের কেজিতেও বেড়েছে দুই টাকা। গেল সপ্তাহে ৫৬ থেকে ৬৬ টাকা বিক্রি হলেও বিক্রেতারা এখন দাম রাখছেন ৫৮ থেকে ৬৮ টাকা। আর এক টাকা বেড়ে মিনিকেট চালের দর দাঁড়িয়েছে ৫০ থেকে ৫৬ টাকায়। আটার কেজি ৩৩ থেকে ৩৫ ও ময়দার কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত এক থেকে দেড় মাস ধরেই বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। মাসখানেক আগে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লারে কেজি এখন ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ এবং দেশি মুরগি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের ডজন ১০৫ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। কিছুটা বাড়তি দেখা গেছে মসলা জাতীয় অন্যান্য পণ্যের দামেও। বাজারে প্রতি কেজি দেশি আদা ১০০ থেকে ১১০, আমদানি করা আদা ১৪০ থেকে ১৪৫, দেশি রসুন ৬০ থেকে ৭০ এবং ভারতীয় রসুন ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু শীতকালীন সবজি এসেছে বাজারে। তবে সেগুলোর দাম চড়া। এক কেজি শিমের দাম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং প্রতি পিস ফুলকপি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সদাই কিনতে এসেছেন রাজাবাজারের আমির আলী। তিনি বলেন, কাঁচামালের দামের কথা বলে আর লাভ নেই। কে শুনে কার কথা। ব্যবসায়ীরা একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ালেও এর কোনো প্রতিকার নেই। যে যেমনি পারছে ব্যবসা করছে। মাঝখানে স্বল্প আয়ের মানুষের টিকে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

অনলাইন ডেস্ক