করোনায় আক্রান্ত ইসির ২১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী

গণটিকাদান কর্মসূচিতে নতুন ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমে চাপ বেড়েছে সারা দেশের নির্বাচনী কার্যালয়গুলোতে।  নতুন ভোটারদের সংস্পর্শে এসে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ২১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।  ইসি সচিবালয় বলছে, সারাদেশে টিকা কার্যক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বাধ্যতামূলক ব্যবহারে থানা নির্বাচন অফিসগুলোতে নতুন ভোটারের চাপ বাড়ছে। সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন চলকালেও নতুন ভোটারের কার্যক্রম চালু রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আর এই কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে ইসি কর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ১২৯ জন সুস্থ হলেও বাকিরা এখনও চিকিৎসাধীন।  করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ইসির ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এদিকে ইসির হিসেবে প্রতিদিন নতুন ভোটারের জন্য দুই হাজারের মতো অনলাইনে আবেদন জমা পড়ছে। এই আবেদন করার পরেই একজন ব্যক্তি সরাসরি সংশ্লিষ্ট থানা অফিসে গিয়ে ছবি, আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ দিয়ে এনআইডি নম্বর পাচ্ছেন। পাশাপাশি ভোটারের ঠিকানা পরিবর্তন ও এনআইডির তথ্য সংশোধনের কাজও চলছে।  ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে এনআইডি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

ইসির এনআইডি উইংয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী গত ২ মার্চ সারাদেশে হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় চলা লকডাউনের মধ্যেই ৩ মার্চ থেকে নতুন ভোটার তালিকাভুক্তির কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত তিন লাখ ২১ হাজার মানুষ ভোটার হতে আবেদন করেন। এ সময়ে ছবি তোলা, আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া ও ফিঙ্গার ম্যাচিং কার্যক্রম শেষ করে ভোটার হিসাবে নিবন্ধিত হয়েছেন এক লাখ ৪১ হাজার ৪ জন। ভোটার হওয়ার শর্ত হিসাবে তারা সবাই ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানার প্যাডে দশ আঙ্গুলের ছাপ দিয়েছেন ও আইরিশ স্ক্যানারে তাদের চোখ রেখেছেন।

এক্ষেত্রে নির্বাচন কর্মকর্তা, অফিস সহকারী ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের সঙ্গে নতুন ভোটারদের সংস্পর্শে এসেছেন। ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, রোববার দুপুরে মারা গেছেন তাজুল ইসলাম নামের এক অফিস সহকারী। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।  এর আগে গত ৩ আগষ্ট করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান নির্বাচন কর্মকর্তা এবিএম সাইফুজ্জামান। তিনি ময়মনসিংহের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন।  এ ছাড়াও করোনা আক্রান্ত হয়ে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. এনামুল হক, নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার সাবেক উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইবুর ও ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের অফিস সহায়ক মো. বাবলুর করিম, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা আলিফ লায়লা, চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান ও পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সাবেক অফিস সহায়ক শহিদুল ইসলাম করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘টিকা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে নতুন ভোটার হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। ভোটার হতে আগ্রহী এসব ব্যক্তিরা যখন নির্বাচন অফিসগুলোতে ছবি তোলাসহ অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নিতে আসছেন তখন সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা-কর্মচারীরা তাদের সংস্পর্শে চলে এসেছেন। এক্ষেত্রে ইচ্ছা থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি সবসময় মানা সম্ভব হয়নি।’ জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক একেএম হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির চ্যালেঞ্জ নিয়েই তারা এনআইডি সেবা দিতে জনগণের পাশে রয়েছেন। যারা নতুন ভোটার হতে আসছেন তারা কোভিড-১৯ পজিটিভ কিনা তা কেউই নিশ্চিত নয়।’