ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তুরস্ক সফর

তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ। দুদেশের মধ্যে কয়েক মাসের উষ্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় আগামী বৃহস্পতিবার আঙ্কারা সফর করবেন ইসরাইলের শীর্ষ এ কূটনীতিক। রোববার (১৯ জুন) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সফরকালে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসগলুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাপিদ। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে গত মাসেই ইসরাইল সফর করেন মেভলুত।

সম্প্রতি বছরগুলোতে ক্রমশ উন্নত হচ্ছে ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যেকার সম্পর্ক। একসময় ইসরাইলবিরোধী মনোভাব দেখালেও এখন দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। সবশেষ তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসরাইল সফর ছিল দুদেশের সম্পর্ক উষ্ণ করার প্রাথমিক ইঙ্গিত।
মূলত ২০০০ সালের পর থেকে তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যকার সম্পর্ক তিক্ত হতে শুরু করে। ইসরাইলের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল ও অবৈধ বসতি নির্মাণ নিয়ে সোচ্চার হয় এরদোগান সরকার। শুধু তাই নয়, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও আঞ্চলিক অন্যান্য ইস্যুতেও সমর্থন জানায় আঙ্কারা।

২০১০ সালে ফিলিস্তিনের গাজায় পাঠানো জরুরি ত্রাণবাহী তুর্কি জাহাজে নির্বিচারে মিসাইল হামলা চালায় ইসরাইল। ওই হামলায় জাহাজের ১০ স্বেচ্ছাসেবী নিহত হন। এর ফলে তেল আবিব-আঙ্কারা সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। এরপর ২০১৮ সালে দেশ দুটির সরকার তাদের নিজ নিজ রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে।

এ ছাড়া মিসরে ২০১৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থান, ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তি, ২০১৯ সালে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও তুর্কি সামরিক অভিযানের মতো আঞ্চলিক ইস্যুগুলোতে দেশ দুটির নেতাদের মতানৈক্য রয়েছে।


ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকের পর কাভুসগলু বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও ফিলিস্তিনিদের প্রতি তুরস্কের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সফরের দ্বিতীয় দিন জেরুজালেমে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাপিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাপিদ বলেন, তুরস্ক-ইসরাইল সম্পর্কে এক ‘নতুন অধ্যায়’র সূচিত হলো। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্ক ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি উভয়ের জন্যই শান্তি বয়ে আনবে।

Related Posts