• রবি. অক্টো ২৪, ২০২১

ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা: হাইকোর্ট

সেপ্টে ২৩, ২০২১

গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগে ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। এক গ্রাহকের আবেদনে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়েছে-বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনো উপায়ে ইভ্যালির সম্পদে কেউ হাত দিতে পারবে না। একইসঙ্গে ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাসিব হোসাইন জানান, ফরহাদ হোসেন নামের একজন গ্রাহক মে মাসে ইভ্যালিতে একটি ইলেকট্রনিক পণ্য অর্ডার করেন। তখনই পণ্যের মূল্য তিনি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। বিনিময়ে ইভ্যালি তাকে একটি রশিদ দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও পণ্যটি হস্তান্তর করেনি ইভ্যালি। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু টাকা বা পণ্য কোনোটিই দেয়নি। আবেদনে গ্রাহক ইভ্যালির অবসায়ন চান। তিনি বলেন, ফরহাদ হোসেনের আবেদনটি আদালত অ্যাডমিট করে আদেশ দেন। বলেছেন, ইভ্যালির যত সম্পদ আছে সেটা যেন বিক্রি বা হস্তান্তর না করা হয়। একইসঙ্গে ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না তা জানতে চেয়ে আদালত রিট জারি করেছেন। রিটে বিবাদী করা হয়েছে-ইভ্যালি লিমিটেড, রেজিস্ট্রার জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, কনজ্যুমার রাইটস প্রটেকশন ব্যুরো, নগদ, বিকাশ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, ই-ক্যাব অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বেসিস, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য সচিবকে। এদিকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচার বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। বুধবার দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার রিট করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির সুযোগে ব্যাঙের ছাতার মতো ই-কমার্স ভিত্তিক অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ইভ্যালি, ধামাকা, আলেশা মার্ট, কিউকম, দালাল, ই-অরেঞ্জ, আলাদিনের প্রদীপ, দারাজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।