মারা গেছে আহত উদ্ধার বিপন্ন প্রজাতির সেই গন্ধগোকুল

মারা গেছে আহত উদ্ধার বিপন্ন প্রজাতির সেই গন্ধগোকুল

কুষ্টিয়ার মিরপুরে আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বিপন্ন প্রজাতির গন্ধগোকুলটি মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিরপুর উপজেলা সহকারী বন কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, রবিবার (১৯ মে) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের সিংপুর গ্রাম থেকে আহত অবস্থায় স্তন্যপায়ী প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে সোমবার (২০ মে) থেকে বন্যপ্রাণীটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। উদ্ধারের পর থেকে গন্ধগোকুলটি উপজেলা বন কর্মকর্তার হেফাজতে ছিল।

মিরপুর উপজেলা সহকারী বন কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘গন্ধগোকুল প্রাণীটিকে উদ্ধারের পর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে প্রাণীটির পেছনের দুই পায়ে প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় সে আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসে দেখি গন্ধগোকুলটি মারা গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছুক্ষণের মধ্যেই গন্ধগোকুলটি ময়নাতদন্তের জন্য পার্শ্ববর্তী ভেড়ামারা উপজেলাতে নিয়ে যাওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, রবিবার রাত ১১টার দিকে স্থানীয় সিংপুর গ্রামের উসমান গণি নামে এক কৃষকের লিচুবাগানে বিলুপ্তপ্রায় গন্ধগোকুলটিকে আটক করা হয়। পরে সেটি উদ্ধার করে উপজেলা বন কর্মকর্তার হেফাজতে দেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার হেফাজতেই প্রাণীটির চিকিৎসা চলছিল।

জানা গেছে, স্তন্যপায়ী প্রজাতির প্রাণী গন্ধগোকুল বর্তমানে সংরক্ষিত প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। পুরনো গাছ, বনজঙ্গল কমে যাওয়ায় দিন দিন এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিবেচনায় পৃথিবীর বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় উঠে এসেছে প্রাণীটি।

বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

প্রসঙ্গত, গন্ধগোকুল নিশাচর প্রাণী। খাটাশের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে এরাই মানুষের বেশি কাছাকাছি থাকে। দিনের বেলা বড় কোনও গাছের ভূমি সমান্তরাল ডালে লম্বা হয়ে শুয়ে থাকে, লেজটি ঝুলে থাকে নিচের দিকে। মূলত ফলখেকো হলেও কীটপতঙ্গ, শামুক, ডিম, বাচ্চা, পাখি, ছোট প্রাণী, তাল-খেজুরের রসও খায়। অন্য খাদ্যের অভাবে মুরগি, কবুতর ও ফল চুরি করে। এরা ইঁদুর ও ফল-ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে। ধূসর রঙের এই প্রাণীর অন্ধকারে অন্য প্রাণীর গায়ের গন্ধ শুঁকে চিনতে পারার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে।