আরও ১৫৪ বিদ্যালয় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চালুর জন্য প্রস্তুত

আরও ১৫৪ বিদ্যালয় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চালুর জন্য প্রস্তুত

দেশের আরও ১৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি চালু করার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৪’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আব্দুস সালামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সচিব জানান, আগামী তিন বছরে আরও এক হাজার স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করার মতো অবকাঠামো আছে।

প্রসঙ্গত, দেশের ৬৯৫টি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চালু আছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি চালু করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে বলা আছে, প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ক্রমে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হবে। এটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়। এখানে নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাদের সিদ্ধান্তে আমরা ৬৯৫টি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি চালু করেছি। আমরা ৭ শতাধিক চালু করেছিলাম। এক সময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার কারণে নতুন স্কুল অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা সচিব জানান, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভায় ধারাবাহিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, শতভাগ অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। হিসাব করে দেখেছি, ৬৫ হাজার ৫৬৬ স্কুলের মধ্যে ৫ হাজারের কাছাকাছি স্কুলে আমরা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করতে পারি। মাধ্যমিকে ২৩ হাজারের কাছাকাছি, নিম্ন মাধ্যমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। এসব স্কুল যদি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করা যায়, তাহলে সরকারের এ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এটি করতে হলে তিনটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে— অবকাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ এবং পদ সৃষ্টি। কারণ আমরা আমাদের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেই পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত।’

মাঠ পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে আমরা এ মুহূর্তে আরও ১৫৪ স্কুলে অষ্টম শ্রেণি চালু করতে পারি। পাশাপাশি আগামী তিন বছরে আরও এক হাজার স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করার মতো অবকাঠামো আছে।’

‘স্মার্ট প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-৫’ এর দিকে যাচ্ছি উল্লেখ করে সচিব বলেন, যাতে অবকাঠামো সুবিধা বাড়ানো যায় এবং ষষ্ঠ-সপ্তম-অষ্টমের শিক্ষক-কর্মচারীদের পদ সৃষ্টি এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। আমাদের পিডিপি-৫ এর কাজ শুরু হলে এ কাজ আরও তরান্বিত হবে।

কবে নাগাদ সব স্কুলে পুরোপুরি অষ্টম শ্রেণি চালু হবে হবে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘এটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, এর সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত। অবকাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ ও পদ সৃষ্টি এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয় রয়েছে। এসব কাজ আমরা ইতোমধ্যে শুরু করেছি। আগামী তিন বছরের একটি টার্গেট নিয়ে কাজ করছি।’