দ্বিতীয়বারের মতো তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে

তিস্তা নদীর পানি এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । এবছর বর্ষা মৌসুমে দু’দফায় বিপর্যয়ের মুখে তিস্তাপাড়ের মানুষ। পরিত্রাণে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই একমাত্র পথ বলে মনে করেন তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা।

বৃহষ্পতিবার (১৫ জুলাই) বিকেল থেকে আবারও ঢল নেমেছে তিস্তায়। তীব্র স্রোতের গর্জনে আতঙ্কিত ব্যারেজ আর আশপাশের এলাকা। আন্তঃসীমান্ত এই নদী বাংলাদেশের জিরো পয়েন্ট থেকে ১১৫ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে মিলিত হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদে। আর নাব্যতা না থাকায় এর দু’ধারে বিস্তৃতি ঘটিয়েছে প্রায় পৌনে দুশ বর্গ কিলোমিটার এলাকায়। খরা মৌসুমে পানি না পেলেও বর্ষায় বাড়তি পানির চাপে দু’পাড়ের মানুষের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আগেই ডুবে যায় পুরো এলাকা। চরম ক্ষতির মুখে পড়ে এলাকার ঘরবাড়ি, খেত খামার, গবাদিপশুসহ সব কিছু। তিস্তা পাড়ের মানুষেরা বলছেন, খরার সময় তো ভারত পানি দেয়ই না। আর এখন বর্ষার সময় পানি ছেড়ে দিছে, বন্যায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, বর্ষায় এমন বন্যায় ক্ষেত-খামার তলিয়ে যাচ্ছে। ঘরবাড়িতে পানি উঠছে। অনেককে ঘরবাড়ি ছেড়ে উচু রাস্তায় বা বাঁধে থাকতে হচ্ছে। নীলফামারী ডালিয়া উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, যখন বন্যার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন আমার স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের জানায়। বিশেষ প্রয়োজনে ক্ষয়ক্ষতি যাতে না হয় সেজন্য আমার মাইকিং করে সাধারণ জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলি। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই একমাত্র পথ- মনে করেন তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের সংগঠক। তিস্তা বাঁচাও-নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী, দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি আমরা এই মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে না পারি, তাহলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্গতির কোনো সীমা থাকবে না। এক সময়ের এক থেকে দুই কিলোমিটার প্রশস্ত ছিলো তিস্তা। গত কয়েক দশকে বিস্তৃতি ঘটেছে ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত। প্রতি বছর ঢলের সঙ্গে বয়ে আসে লাখ লাখ টন পলি। এই পলি অপসারণের কোন উদ্যোগ কখনই নেয়া হয়নি। ফলে তলদেশ উঁচু হয়ে নাব্যতা হারিয়েছে তিস্তা।

Related Posts